আদালত মিডিয়া সমাজ এবং ধনঞ্জয়ের ফাঁসি
আদালত মিডিয়া সমাজ এবং ধনঞ্জয়ের ফাঁসি আদালত মিডিয়া সমাজ এবং ধনঞ্জয়ের ফাঁসি আদালত মিডিয়া সমাজ এবং ধনঞ্জয়ের ফাঁসি আদালত মিডিয়া সমাজ এবং ধনঞ্জয়ের ফাঁসি আদালত মিডিয়া সমাজ এবং ধনঞ্জয়ের ফাঁসি

আদালত মিডিয়া সমাজ এবং ধনঞ্জয়ের ফাঁসি

Price: Rs.110
Qty:
   - OR -   

বারো বছর আগে রাজ্যে সর্বশেষ ফাঁসির ঘটনাটি ঘটেছিল আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে৷ চোদ্দো বছর সলিটারি সেলে রাখার পর ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়৷ ধনঞ্জয় আগাগোড়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন৷ নাগরিক সমাজের একাংশও ধনঞ্জয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যাসত্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন৷ সেই সংশয় আরও গভীর হয়েছে দেবাশিস সেনগুন্ত , প্রবাল চৌধুরী , পরমেশ গোস্বামীর দীর্ঘ অনুসন্ধানে৷ প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত ও বিচার -প্রক্রিয়া নিয়েও৷ সেই অনুসন্ধানের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন গ্রন্থাকারে প্রকাশ করছে গুরুচণ্ডালি -  ‘আদালত মিডিয়া সমাজ এবং ধনঞ্জয়ের ফাঁসি ’ 

প্রচ্ছদ- কৃষ্ণেন্দু চাকী , সহায়তা - সায়ন কর ভৌমিক


এই বই মূলত সিস্টেম নামক সেই ঈশ্বরকে চ্যালেঞ্জ করার এক আয়ুধ। তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ার উপর, সারা পৃথিবীর মতই, এখানেও ছড়ানো আছে যে বিশেষজ্ঞতার মায়াজাল, সেই মিথের কুয়াশা ভেদ করে দেখার দূরবীন। এ পৃথিবী আমাদের চারদিকেই ছিল এতদিন, আমরা শুধু চোখ খুলে দেখিনি। দলিল-দস্তাবেজ হাতের কাছেই ছিল, ‘সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরছেনা’ যে কেউই বলতেই পারতাম, কিন্তু শুধু দূরবীন বৃহস্পতির দিকে তাক করার প্রয়োজনবোধ করিনি। আমরা আপ্তবাক্যে বিশ্বাস রেখেছিলাম। ধর্মগ্রন্থের মিথে আস্থা রেখেছিলাম। ঈশ্বরে বিশ্বাস করেছিলাম।


কাফকার লেখা, দীর্ঘদিন ধরে পড়া হয়েছে পশ্চিম ইউরোপীয় প্রেক্ষিতে। অনেক পরে এসে মিলান কুন্দেরা লিখবেন কাফকাইস্ক অলীক পরাবাস্তবতা পূর্ব ইউরোপেও এক না হলেও অভিন্ন। তাঁর দীর্ঘ গদ্যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মিশেল দিয়ে কুন্দেরা সেই অলীক কিন্তু অমোঘ বাস্তবতার বর্ণনা দিয়েছেন। সে বর্ণনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। যেটুকু প্রাসঙ্গিক, তা হল, এরও অনেক পরে, ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের আখ্যান থেকে এই ২০১৬ সালে আমরা জানতে পারব, এই অলীক পরাবস্তবতা শুধু ইউরোপ বা আমেরিকার সম্পত্তি নয়, তৃতীয় বিশ্বের আইনী প্রাসাদ আর অলিন্দ জুড়েও তার অমোঘ অবস্থান। শাস্তি এখানেও পূর্বনির্ধারিত, যেন দৈবী কোনো এক প্রক্রিয়ার ফল। বিচার শুধু এক আনুষ্ঠানিক ক্রিয়াকর্ম। কিন্তু এই অত্যন্ত সোজা বিষয়টিকে আমরা বুঝিনি। জানিনি। যদিও বোঝা কঠিন ছিল না। বিষয়টা তো অজানা ছিলনা একেবারেই। আমাদের চোখের উপর ১২ বছর আগেই ঘটে গেছে ওই ঘটনা। ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের ফাঁসি। মিটিং মিছিল কম হয়নি। কিন্তু কী আশ্চর্য, তার পরেও আমাদের আস্ত প্রজন্মই কখনও বিষয়টা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেনি। কারণটা খুব পরিষ্কার ছিল। আমরা আমাদের গণতন্ত্রের স্তম্ভ, বিচার-প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রেখেছিলাম। বিশেষজ্ঞতায় চোখ বন্ধ করে ভরসা করেছিলাম। আমরা আইন-আদালত নামক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেছিলাম।


দেবাশিসবাবুদের স্যালুট এই জন্য নয়, যে তাঁরা একটা বই লিখেছেন। বিষয়টা তো অজানা নয় একেবারেই। আমাদের চোখের উপর ১২ বছর আগেই ঘটে গেছে ওই ঘটনা। ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের ফাঁসি। মিটিং মিছিল কম হয়নি। কিন্তু কী আশচর্য, তার পরেও ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের কেস নিয়ে আমার কখনও কোনো আগ্রহ ছিলনা। এই আমি শুধু আমি না, আমাদের আস্ত প্রজন্মই কখনও বিষয়টা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেনি। কারণটা খুব পরিষ্কার ছিল। আমরা আমাদের গণতন্ত্রের স্তম্ভ, বিচার-প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রেখেছিলাম। চোখ বন্ধ করে ভরসা করেছিলাম।
প্রবালবাবুদের স্যালুট এই জন্য নয়, যে, তাঁরা সম্পূর্ণ অজানা একটা বস্তু আবিষ্কার করেছেন। স্যালুট এই জন্য, যে, আমাদের মতো, তাঁরা সিস্টেম নামক কোনো ঈশ্বরে চরম বিশ্বাস অর্পণ করে বসে থাকেননি। প্রশ্ন ছাড়া কোনো আপ্তবাক্যকে চোখ বন্ধ করে মেনে নেননি। আদালতের প্রসিডিংস, পুলিশের ডায়রি, সায়প্রমাণ, সবই তো আমরাও জোগাড় করতে পারতাম। কিন্তু করিনি, আমরা আইন-আদালত নামক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেছিলাম। প্রবালবাবুরা করেননি, দীর্ঘ দশ বারো বছর ধরে প্রশ্ন করে গেছেন, এক নির্ধারিত সত্য কে। 'পৃথিবী স্থির' এই আপ্তবাক্যকে চোখে টেলিস্কোপ লাগালেই যে কেউ প্রশ্ন করতে পারত। কিন্তু বাকি কেউ করেনি।
কিন্তু পরমেশবাবুদের স্যালুট শুধু এই জন্যও না, যে, তাঁরা বাকি কারো উদ্যোগের পরোয়া না করে ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় কেস নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়েছেন। স্যালুট এই জন্য, যে, গণতন্ত্রের যে তিনটি স্তম্ভকে আমরা নিরেট বলে ভেবে এসেছি এতদিন, সেই ধারণা যে কতটা ফোঁপরা, তা বেরিয়ে এসেছে এই অনুসন্ধানে। আর একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে আমরা দেখেছি, ভেঙে পড়ছে আমাদের সাধের পৃথিবী। এই সেই পৃথিবী, যেখানে আইন সর্বদা শার্লক হোমসীয় পন্থায় নেতি-নেতি বিচারে চলেনা। বরং 'অপরাধী' অনেক সময়েই পূর্বনির্ধারিত। পাড়াগাঁয়ে ডাইনি-চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া যেমন হয়, এ তার চেয়ে আলাদা কিছু না। এ পৃথিবী আমাদের চারদিকেই ছিল এতদিন, আমরা শুধু চোখ খুলে দেখিনি।
কিন্তু এই লেখা তো শুধু চোখ খুলে দেবার স্যলুট জানানোর জন্য না। আমরা তো সত্যিই গণতন্ত্রের স্তম্ভগুলিতে আস্থা রাখতে চাই। চোখ খুলে চারদিক দেখে আঁতকে উঠলেই তো কাজ শেষ হয়ে যায়না। আরও চারটি লোককে জানাতে হয়, কোথাও একটা আলোড়ন তুলতে হয়। এই বই গুরুচন্ডালি প্রকাশ করছে সেই জন্যই। যাঁরা বিষয়টা শুনে আমার মতই আঁতকে উঠেছেন, যাঁদের পৃথিবী আমার মতই দুম করে ভেঙে পড়েছে, তাঁদের কাছে দাবী একটাই। বইটার কথা বাকিদেরও জানান। সবাই জানুন, সবকিছু। 

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়


যে খুনখারাপির ব্যাপারে থানাপুলিশ আদালত সরকার সব কিছু জড়িয়ে যায় সেই নিয়ে লিখিত ভাবে কিছু বলতে গেলে লেখকদের পিঠ বাঁচানোর জন্য আগাম দায় অস্বীকার করে রাখতে হয়। ইংরিজিতে সেই জিনিসটাকে বলে ডিসক্লেইমার। আইন বাঁচিয়ে বলতে হয়, ‘এই গ্রন্থে যে-সকল ব্যক্তির নামোল্লেখ হয়েছে তাঁরা কাল্পনিক’। আমাদের সেই সুবিধা নেই। কারণ, একটা সত্য ঘটনা নিয়েই আমাদের লিখতে হচ্ছে এবং সত্যকে প্রকাশ করাটাই আমাদের উদ্দেশ্য। মিডিয়ার কল্যাণে ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের ‘অপরাধ’ ও ফাঁসিকে কেন্দ্র করে এত টক-ঝাল-মিষ্টি চিবানো হয়ে গেছে যে কাল্পনিক নাম দিয়ে কিছু আড়াল করা সম্ভবও নয়।'


হেতাল পারেখ খুনের ঠিক পরেই ধনঞ্জয়কে আর দেখতে না পাওয়ায় পুলিশ ধরে নিয়েছিল যে খুনটা সে-ই করেছে, নাহলে পালাল কেন! এই বইয়ে এইরকম ভাবে কিছু ধরে নিয়ে এগোনো হয় নি। সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখতে চাওয়া হয়েছে যে খুনটা সত্যিই কে করেছিল। সেটা করতে গিয়ে একাধিক সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। আমাদের বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য হল খুনের এক একটা সম্ভাবনার সম্ভাব্যতাকে যুক্তি দিয়ে বিচার করা ও তুলনা করা। দু’একটা জায়গায় কোনো কোনো ছবি স্পষ্ট করার জন্য কিছু অনুমান করা হয়েছে, তবে তা তখনই জানিয়ে রাখা হয়েছে। তথ্য বা সিদ্ধান্তের নামে অনুমান কোথাও গোপনে গুঁজে দেওয়া হয় নি। সেই অনুমানগুলো যুক্তিকাঠামোর মধ্য দিয়ে কোনো সর্বজনীন সত্যকে নির্দেশ করেছে কিনা সেই বিচারের ভার পাঠকের উপর।


 

Write a review Your Name:


Your Review: Note: HTML is not translated!

Rating: Bad           Good

Enter the code in the box below: